ট্রাম্প প্রশাসন আরোপিত শুল্কের প্রভাব মার্কিন ভোক্তা পর্যায়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সম্প্রতি দেশটিতে স্যুপের ক্যান থেকে শুরু করে গাড়ির যন্ত্রাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন ভোক্তা পণ্যে দাম বাড়তে শুরু করেছে। তবে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এখনো মাঝারি গতিতে বাড়ছে। খবর এফটি।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য ও কোম্পানিগুলোর বিবৃতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুরনো মজুদ বিক্রি শেষে এখন শুল্কজনিত খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। ফলে আমদানিনির্ভর খাতগুলোয় পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে।
মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, মার্চ-আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে অডিও সরঞ্জামের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশ, পোশাকে ৮ শতাংশ এবং হার্ডওয়্যার সরঞ্জামে ৫ শতাংশ। এর সব পণ্যের বেশির ভাগই আমদানি করা হয়।
খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠন ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক ম্যাথিউজ বলেন, ‘দুই বছর ধরে পণ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় শূন্য ছিল। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, তা ধীরে ধীরে বাড়ছে।’
গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক ঘোষণা করেন। তবে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কার তুলনায় সে বাণিজ্যযুদ্ধের ক্ষতি এখনো সীমিতই রয়েছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ।
কিছু খুচরা বিক্রেতা শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই দ্রুত পণ্য আমদানি করে মজুদ বাড়িয়ে নেন। কেউ কেউ নির্দিষ্ট পণ্যে দাম বাড়িয়ে মুনাফা ধরে রাখছেন। সদস্যভিত্তিক মার্কিন খুচরা বিক্রেতা চেইন কস্টকো জানিয়েছে, তারা এখন খেলনা ও সাজসজ্জার মতো আমদানীকৃত শীতকালীন পণ্য কম দেখাচ্ছে। এর বদলে সনা ও ঘরের আঙিনার শেডের মতো দামি পণ্য রাখছে।
আমদানীকৃত পণ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা ব্যয়ের ১০ শতাংশের বেশি ধারণ করে। এখন ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে খোলাখুলিভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে।
ওয়াল স্ট্রিটের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান টেলসি অ্যাডভাইজরি গ্রুপের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে খুচরা বিক্রেতারা টি-শার্ট ও জুতার মতো ২৯টি সফট লাইন পণ্যের মধ্যে ১১টির, সাইকেল ও ডিশওয়াশারের মতো ১৮টি হার্ড লাইন পণ্যের মধ্যে ১২টির এবং ১৬টি ক্রীড়াসামগ্রীর মধ্যে পাঁচটির দাম বাড়িয়েছে।
টেলসির বিশ্লেষক জো ফেল্ডম্যান, ‘এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে শুল্ক এখন প্রভাব ফেলছে ও দাম বাড়াচ্ছে।’
বিশ্বের বৃহত্তম আসবাবপত্র নির্মাতা অ্যাশলি ফার্নিচার জানিয়েছে, তারা তাদের বেশির ভাগ পণ্যের দাম ৩ দশমিক ৫ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
অটো পার্টস বিক্রেতা অটোজোনের প্রধান নির্বাহী ফিলিপ ড্যানিয়েল জানিয়েছেন, শুল্কের পূর্ণ প্রভাব পড়লে আরো অনেক পণ্যের দাম বাড়তে পারে। অনেক গ্রাহকই বাড়তি দাম নিতে বাধ্য হবেন, কারণ স্টার্টারের মতো যন্ত্রাংশ খারাপ হলে গাড়ি চালু হবে না।